বোয়ালখালীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পূর্ব গোমদন্ডী লোকনাথ মন্দিরের ১৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব উদযাপিত

প্রভাস চক্রবর্ত্তী, বোয়ালখালী:

 

বোয়ালখালীতে পূর্ব গোমদন্ডী লোকনাথ মন্দিরে ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারী এক মহতি উৎসব তাপস চক্রবর্ত্তী (মিঠুর) সভাপতিত্বে প্রিয়ঞ্জিত চক্রবর্ত্তী সঞ্চালণায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যেদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধকদের ঘোরার গাড়িতে করে অতিভ সম্মানের সহিত মন্দির প্রাঙ্গনে লাল গালিচা ছিটিয়ে উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে নুতন লোকনাথ কমপ্লেক্সভবন, দূর্গা মন্দির, সুহৃদ ক্লাবসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের স্হাপনা উদ্ধোধন করা হয়।
শুরুতেই বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির বাগীশিক উপজেলা পৌরসভার সংসদে গীতা পক্ষ থেকে সমবেত গীতা পাঠ পরিবেশিত হয়।

নব – নির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন আমেরিকান প্রবাসী সন্তোষ কুমার দে, পুরোহিত ভবন উদ্বোধন করেন মানবতার ডাক্তার রজত কুমার বিশ্বাস,সাবেক ব্যাংকার রতন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি সদস্য বি়ভু পদ ঘোষ, সাবেক কাউন্সিলর সুনীল ঘোষ, মন্দির পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি শ্যামল চৌধুরী,মন্দির পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা কল্যাণ দত্ত, এবং উৎপল দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অর্পিত দত্ত, অর্থ সম্পাদক শংকর চৌধুরী,

সাধারণ সম্পাদক অনিল কান্তি দে, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বাবলু ঘোষ, সুহৃদ ক্লাবের সভাপতি ডা; প্রভাস চক্রবর্ত্তী সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি বিকাশ কান্তি সিকদার, উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন কর, অর্থ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার দত্ত,
আরো উপস্থিত ছিলেন, মন্দির পরিচালনা পর্ষদ অর্থ সম্পাদক বিধান মোহরের, চিন্ময় চৌধুরী, (বাবলু)মিঠু কুমার নন্দি,মিঠু ঘোষ, সুব্রত দত্ত, রাজু বিজয় চক্রবর্ত্তী, রাজীব দে রাজু, সুমন দে, জনি দাশ, অন্তর দাশ, অজয় ধর,

বক্তারা বলেন, লোক নাথ ত্রীকাল জয়ী মহান এক সাধক,মহা পুরুষ, যার নাম নিলে শুধু পাপ দুর হয়ে যায়।

দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকাল তিনটায় মিঠু চৌধুরী সঞ্চালণায় এক সঙ্গিতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ মহান সাধকের বাণীতে আছে রণে,বনে, যখনি বিপদে পড়িবে, আমাকের স্বরণ করিও আমি তোমাদের উদ্ধার করিব।

কতিত আছে, লোকনাথ বাবা হিমালয়ের পাদদেশে ভিন্ন ভিন্ন গুহায়; জঙ্গলে কঠিন সাধনায় অতিবাহিত করেন প্রায় ৪০ বছর। গুরুদেবের আদেশ ও নির্দেশ এক বাক্যে পালন করেন লোকনাথ ও বেণীমাধব; দুই ব্রহ্মচারী বন্ধু। হিমালয়ে থাকাকালীন প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে; কঠিনতম তপস্যার মাধ্যমে লাভ করেন পরম সত্য।

কিন্তু নিজের প্রচারবিমুখতার কারনে সেই কষ্টের কথা; কাউকে কিছু বলে যাননি। শুধু বলতেন-“মনে হয় এই বিরাট বিশ্বসৃষ্টির মধ্যে আমি ওতপ্রোত হয়ে রয়েছি; আমার মধ্যেই বিরাজ করছে সমগ্র সৃষ্টি, আর সমগ্র সৃষ্টির আদি ও অন্তে আমিই শ্বাশত হয়ে রয়েছি”।

তিনি বলতেন; “সমাধিস্থ অবস্থায় অবস্থানকালে কত বরফ এই শরীরের উপর জমেছে; আবার গলে বরফ হয়ে গেছে; তার খেয়াল করার মতন শরীর-মনের চেতনা তখন আমার কোথায়”।

বাবা লোকনাথ ও বেনীমাধবের বয়স যখন ৯০ তখন গুরুর বয়স ১৫০। গুরু ভগবান গাঙ্গুলীর দেহত্যাগের সময় চলে আসায়; তিনি তার দুই শিষ্যকে নিয়ে আসেন; ভারতের শ্রেষ্ট মহাযোগী তৈলঙ্গ স্বামীর কাছে। তারপর দেহত্যাগ করেন ভগবান গাঙ্গুলী।

লোকনাথ ও বেণীমাধব প্রায় ২০ বছর কাটান; তৈলঙ্গ স্বামীর সঙ্গে তাঁর আশ্রমে। পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করে বেরান পায়ে হেঁটে। তৈলঙ্গ স্বামীর নির্দেশে – বেনীমাধবকে সঙ্গে নিয়ে বাবা লোকনাথ চলে যান তিব্বত। তিব্বত থেকে অরুনাচল; অরুনাচল থেকে আসাম।

আসামেই থেকে যায় বেনীমাধব। এখানেই ১৪০ বছরের বন্ধুত্বের চিরবিদায় হয়। লোকনাথ বাবা চলে আসেন চন্দ্রনাথ পাহাড় (সীতাকুন্ডু), চট্টগ্রামে।

বাবা লোকনাথকে নিয়ে আছে অনেক গল্প। ধর্মপ্রচারক বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গাছের নীচে ধ্যানমগ্ন ছিলেন; হঠাৎ চোখ খুলে দেখেন চারিদিকের আগুনের লেলিহান শিখা; প্রচন্ড ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

অজ্ঞান হবার মুহুর্তে দেখতে পান; এক দীর্ঘদেহী উলঙ্গ মানুষ তাকে কোলে তুলে নিচ্ছেন। যখন জ্ঞান ফিরে পান দেখেন; আসে-পাশে কোন জনমানব নেই । তিনি একা পাহাড়ের নিচে শুয়ে আছেন। পরবর্তীকালে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী নামি ধর্মপ্রচারক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

ভারত এবং বাংলাদেশে তার অসংখ্য ভক্ত ছিল। তিনি যখন নারায়নগঞ্জ এর বারদী আসেন; তখন বাবা লোকনাথকে দেখে চিনতে পারেন। বুঝতে পারেন, ইনিই তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন।

এরপর সারা ভারত এবং বাংলাদেশে প্রচারবিমুখ বাবা লোকনাথের অসামান্য যোগশক্তির কথা; প্রচার করে বেড়ান এই বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী। তখন থেকেই মানুষ বাবা লোকনাথ সম্পর্কে জানতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *