নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—একটি শিশুকে দিয়ে দেহব্যবসা করানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ পারভীন আক্তারের মেয়ে মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার (৯)-কে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মেয়েটির মায়ের দাবি, পাশ্ববর্তী বাড়ির মোঃ কাজল মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ পারুল আক্তার (৩২), মোছাঃ সমলা আক্তার ও নূর নাহার আক্তারসহ কয়েকজন এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বাড়ির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, পরে তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও যুবতী এনে এসব অপকর্ম চালানো হয় এবং এর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
পারভীন আক্তার বলেন, তিনি বাড়িতে না থাকলে এই সুযোগে শিশুটিকে দিয়ে এসব কাজ করানো হয়।
এ ঘটনার পর ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এলাকাবাসীর সামনেই পারভীন আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে একটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোঃ রতন মিয়া (৫০)-কে আসামি করে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তবে স্থানীয় অনেকেই দাবি করেছেন, রতন মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাদের মতে, তাকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুকে দিয়ে এমন জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। অন্যথায় এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এলাকার যেসব বাসিন্দা বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন—মোঃ রুবেল মিয়া, মোঃ পলাশ মিয়া, আবু সাঈদ, মজিবর রহমান, মাসুদ মিয়া, আলম মিয়া, আব্দুল গাফফার, মোতালিব, মোঃ সুমন মিয়া, সাইদুল ইসলাম, মোঃ খোকন মিয়া, আবুল মিয়া, মোঃ আতিক মিয়া, মোঃ হুমায়ুন মিয়া, হুলুদ মিয়াসহ আরও অনেকে।
প্রকাশ থাকে যে, অভিযোগের বাদী এর আগেও এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে একইভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।