আড়াইহাজারে ১৬ মাস পর অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা, স্বামী সুমন আটক

মনিরুল ইসলাম:

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ১৬ মাস পর একটি অপমৃত্যুর ঘটনা অবশেষে হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত স্বামী সুমন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার নাজমা আক্তারের মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩) গত ১৬ মাস আগে মারা যান। শুরুতে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে ডাক্তারি প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের বিষয়টি উঠে আসে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিদনী আক্তারের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলার মাহাম্মদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবারদী এলাকার সুমন মিয়ার পারিবারিকভাবে ২০০৩ সালের ৭ জুলাই বিয়ে হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাতে হঠাৎ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে দীর্ঘ ১৬ মাস পর প্রাপ্ত ডাক্তারি প্রতিবেদনে বলা হয়, জিদনী আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিহতের মা নাজমা আক্তার বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান আসামি সুমন মিয়া (৩২), তার মা রূপালী বেগম (৫৫), বাবা হান্নান হানু (৬৪), বোন সুমনা আক্তার (২৬) ও সিমা আক্তার (২৪), আত্মীয় রোকসানা আক্তার (৩৯), সাকিব (১৯) এবং মইনুল হক (২৮)।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সুমন মিয়াকে আটক করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি অপমৃত্যুর ঘটনা হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জোরালো হয়েছে। তারা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *