মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (১৬ মার্চ) নগরীর স্বাধীনতাচত্বর এলাকায় ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আরিফের উদ্যোগে এ উপহার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহ্জালালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাহমুদ ময়না, দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী ফালু ও আক্তার উদ্দিন, শহীদ নগর পঞ্চায়েত প্রধান আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন, বিএনপি নেতা মোঃ মনির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ঈদের আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আল আরিফের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত। সমাজে বৈষম্য দূর করতে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
পরে ১৮নং ওয়ার্ডের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য দেওয়া হয়, যা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজক আল আরিফ জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা চাই ঈদের আনন্দ যেন সবার ঘরে পৌঁছে যায়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন, যাতে তিনি সমাজের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন উদ্যোগ শুধু সাময়িক সহায়তাই নয়, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।