মোঃ মানিক:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দৈনিক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক মোটরসাইকেল চালক জ্বালানি নিতে পারছেন না। সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্প এলাকার চারপাশে শতাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সারি যত দীর্ঘ হচ্ছে, তত বাড়ছে চালকদের হতাশা ও অসন্তোষ।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ সীমিত হওয়ায় প্রতি সিরিয়ালে ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এর উদ্দেশ্য হলো সবার মধ্যে কিছুটা হলেও জ্বালানি বিতরণ নিশ্চিত করা। তবে এই নিয়মের কারণে লাইনের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের সময় ও কর্মঘণ্টা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
চলতি পরিস্থিতিতে দেখা যায়, সকাল থেকেই পাম্প এলাকায় মানুষের চাপ রয়েছে। কেউ কেউ সারি ছাড়ার আগে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতি প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পেট্রোল ও ডিজেলের উপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় এক চালক অভিযোগ করেন, “আমি আজ সকাল ৮ টা থেকে লাইনে আছি। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল নিতে পারিনি। আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, আর কাজও ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “কিছু নিয়মিত গ্রাহক বা পরিচিতদের আগে তেল দেওয়া হচ্ছে—এতে অন্যদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।”
পাম্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত সরবরাহের কারণে এমন হয়। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র সরবরাহ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; পাম্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। লাইনের ব্যবস্থা, ভুয়া বা অতিরিক্ত দাবি ঠেকানো, এবং প্রতিটি গ্রাহককে ন্যায্যভাবে জ্বালানি প্রদান নিশ্চিত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও মানসিক চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া, জরুরি কাজে যারা দ্রুত যাত্রা করতে চান, তারা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
অপরদিকে, পাম্পের কিছু চালক ও সহকর্মী জানাচ্ছেন, সরবরাহ সীমিত হলেও বিষয়টি আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। তাদের মতে, প্রতি লাইনে অপেক্ষমান মোটরসাইকেলের সংখ্যা ও সিরিয়ার সঠিক হিসাব রাখা গেলে, প্রতিটি গ্রাহককে ন্যায্য পরিমাণ তেল দেওয়া সহজ হবে।
ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। শৃঙ্খলিত ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে তাদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কাজে যোগ দিতে পারবে।
সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, সরকারের তদারকি ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ছাড়া এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক অসুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে পাম্পে আসেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই কারণে দ্রুত শৃঙ্খলা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
চূড়ান্তভাবে বলা যায়, ঈশ্বরগঞ্জের পেট্রোল সংকট শুধু ভোগান্তির কারণ নয়, এটি কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন জীবনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় প্রশাসন, পাম্প কর্তৃপক্ষ ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে এখন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ রয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষ ন্যায্য জ্বালানি পেতে পারলে, শুধু তাদের ভোগান্তি কমবে না, এলাকায় সামাজিক অস্থিরতাও হ্রাস পাবে।