মিরপুর-১২ নতুন থানা সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকিরের দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সরকারি সেবা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে দৈনিক স্বাধীন সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ ও সহকর্মী সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে গেলে কথিত সাংবাদিক জাকির তাদের বাধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, জাকির সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “অ্যাসাইনমেন্ট দেখান, আপনারা ভুয়া সাংবাদিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখানে অনেক সাংবাদিককে মারধর করেছি।” এই বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডিলার মাজেদা খাতুন পরিচালিত এই কেন্দ্রে আট বস্তা আটা ও তিন বস্তা চাল মজুত থাকলেও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোনো তদারককারী কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি বলে সাংবাদিকরা জানান। তারা মালামাল বিতরণে সঠিক হিসাব রক্ষিত হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত এই ওএমএস কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল বা আটা এবং দুই কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ দুই প্যাকেট বিক্রয়ের বিধান রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ জানান, “আমরা শুধুমাত্র সরকারি ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবার মান যাচাই করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথিত সাংবাদিক জাকির আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি।”
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি এই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
ওএমএস কেন্দ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি সেবা কর্মসূচি। এখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কথিত সাংবাদিক জাকিরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অভিযোগ সাপেক্ষে তদন্ত করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানান।