মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে চাষাড়া চত্বর ও আশপাশের এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভে অংশ নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নাগরিক সমাবেশেও গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ চাষাড়া থেকে মিশনপাড়া হয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত মিছিল বের করে। তারা ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি তোলেন।
ইসলামী ছাত্রশিবির মিশনপাড়া থেকে চাষাড়া গোল চত্বর পর্যন্ত মিছিল করে। সংগঠনের নেতারা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আনোয়ার হোসেনসহ নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘নির্বাচনের ঘোষণার পরদিন রাজপথের একজন লড়াকু সৈনিক গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
আমরা এটাই আশঙ্কা করেছিলাম।’
এনসিপির নেতৃবৃন্দ চাষাড়া শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ শেষে বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর এমনভাবে গুলিবর্ষণ আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আনোয়ার হোসেন এমন একটি ঘটনাকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।
এ ছাড়া, খেলাফত মজলিসের অপর একটি অংশ এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, গণসংহতি আন্দোলন ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ কারীরা ঘটনার তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।