কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত কর্মকর্তা রিশাদ উন নবী প্রত্যাহার, দুদকের তদন্ত দাবি

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)-এর বিতর্কিত অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ রিশাদ উন নবীকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনরোষের মুখে প্রায় এক মাস আগে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনকালে রিশাদ উন নবীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্লট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদনসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কাজ অনুমোদনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় জনগণ, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কেবল প্রত্যাহার করলেই দায় এড়ানো সম্ভব নয়। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রিশাদ উন নবীর বিরুদ্ধে ওঠা শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে তারা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

তাদের মতে, কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী। এ অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কউকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ইতিবাচক বার্তা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *