স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলাধীন ১ নং কালিবাজার ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ উঠেছে ডিলার মহিউদ্দিন সেলিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিমাপে কম চাল দিয়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৪ তারিখে ধনুয়াখলার তালতলা এলাকায় অবস্থিত ডিলার মহিউদ্দিন সেলিমের গোডাউনে ভিজিএফের চাল ৩০ কেজি করে ৪৫০ টাকার বিনিময়ে বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণের সময় স্থানীয়রা পরিমাপ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে পুনরায় মাপ দিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক গ্রাহককে ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৮ কেজি ৩০০ গ্রাম, ২৮ কেজি ৭০০ গ্রাম ও ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা এটিকে প্রকাশ্যে চুরি বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবুল হাসনাত সজিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করলে সেখানে ডিলার মহিউদ্দিন সেলিম নিজেই ২৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। একইসঙ্গে গোডাউনে কর্মরত এক শ্রমিকও চাল কম দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তবে ঘটনার ১৩ দিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপজেলা কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। ডিলারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন না করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, “এই বিষয়ে আমি সম্পূর্ণভাবে অবগত নই। বিষয়টি সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার আওতাধীন।”
আদর্শ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সুজিত বিহারী সেন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত দল পাঠানো হয়। তারা দেখতে পায় অল্প পরিমাণ চাল কম দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাদের টিম গিয়ে গ্রাহকদের সঠিক পরিমাণ চাল বিতরণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ না থাকায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পূর্বে চাল বিতরণ কেন্দ্রটি কমলাপুর গ্রামে ছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সুপারিশে কেন্দ্রটি ধনুয়াখলায় স্থানান্তর করা হয়। কমলাপুর এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, “কমলাপুরে থাকাকালেও ডিলার মাপে কম চাল দিতেন। আমরা প্রতিবাদ করায় তিনি কেন্দ্রটি নিজের বাড়ির সামনে স্থানান্তর করেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল কম দিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।