গৌরীপুরে ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ‘রবি ডাক্তারের’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৮ নং ডৌহাখলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ত্বকপুর গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে মো. সুজন মিয়ার বসতবাড়িতে ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি ডাক্তারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজন মিয়ার সাথে রবি ডাক্তারের দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাতাবরগণ রবি ডাক্তারকে জমির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন এবং কৌশলে বৈঠক ত্যাগ করেন। সুজন মিয়ার দাবি, তার বাবা রবি ডাক্তারকে কোনো জমি লিখে দেননি; তারা একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে অবৈধভাবে খারিজ (মিউটেশন) করে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে সুজন মিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রবি ডাক্তার।

হামলা ও লুটপাটের বিবরণ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ মিনিটে বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক না থাকার সুযোগে রবি ডাক্তার তার ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুজন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করে। এসময় ঘরের মহিলারা বাধা দিলে তাদের শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ঘটনাস্থল থেকে চারজন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

থানায় মামলা ও বর্তমান অবস্থা

এই ঘটনায় সুজন মিয়া বাদী হয়ে মো. রফিকুল ইসলাম রবি ডাক্তারসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৩৫৪/৫০৬/(২) ও ১৪৪ ধারায় একটি মামলা রুজু করে (মামলা নং-১০)।

তবে মামলা হওয়ার বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও মূল হোতা রবি ডাক্তারসহ নামীয় আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলাকাবাসীর বক্তব্য

সরেজমিনে তদন্তে গেলে গ্রামবাসী ও শালিসে উপস্থিত থাকা মো. আবুল হাশিম, আবদুল হেকিম, মো. শরীফ আহমদসহ উপস্থিত অনেকেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তারা জানান, রবি ডাক্তার শালিসের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *