মোঃ মাহমুদুল হাসান:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে তারাফুল খাতুন নামে এক গৃহবধূকে ‘তালাক’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শিবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেখটোলা তর্তিপুর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারাফুল খাতুনের স্বামী সৈবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী বলে জানা গেছে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানদের নিয়ে তারাফুল খাতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে তারাফুল খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার স্বামী বিএনপি করেন। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বলেন ‘সব ঠিক থাকে যেন’। কিন্তু আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি। আমি আগেও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে গেছি, যা আমার স্বামীও জানতেন। কিন্তু মানুষজনের কথা শুনে তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন।”
তারাফুলের ছেলে তারিফ হোসেন বলেন, “আমরা এখন আমার ফুফুর বাড়িতে আছি। মাকে তালাক দেওয়ার পর আমার বাবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু আমার মা আর বাবার সংসারে ফিরতে চান না।”
তারাফুলের স্বামী সৈবুর রহমান বলেন, “আমার ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় বউকে তালাক দিয়ে দিয়েছি। এখন লোক লাগিয়েছি তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য।”
এ বিষয়ে জামায়াতের শিবগঞ্জ পৌর নায়েবে আমীর আব্দুল আজিজ মাহমুদ বলেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কারণে যেহেতু তারাফুল খাতুনকে তালাক দেওয়া হয়েছে, সেহেতু দল তার সকল প্রয়োজনে পাশে থাকবে।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শিবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন বলেন, “ভোট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৈবুর রহমান তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন, যা একটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।”