স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশে জন্মের পর থেকেই প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি একক পরিচয়পত্র বা নিবন্ধনভিত্তিক কার্ড চালুর প্রস্তাব উঠেছে। নাগরিক সেবা সহজ করা, সঠিকভাবে জনসংখ্যা নির্ধারণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এমন উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে মত দিয়েছেন এক সচেতন নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেদনে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক মানুষের এখনও কোনো নিবন্ধন নেই। ফলে প্রকৃত জনসংখ্যা নির্ধারণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জন্মের পর থেকেই একটি একক আইডি বা কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার নির্ধারিত সংস্থা থেকে তার নিবন্ধন সম্পন্ন করে একটি আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। এ কার্ডের নাম জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো নাম হতে পারে। যাদের ইতোমধ্যে এনআইডি রয়েছে তারা তা ব্যবহার করবেন এবং যাদের নেই বা যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা নির্বাহী অফিস, থানা, ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের সময় নাগরিকদের নিবন্ধন যাচাই করা হবে। কেউ নিবন্ধিত না থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, কোনো নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তার নিবন্ধন তথ্যের ভিত্তিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার কার্ড দেওয়া যেতে পারে। সেই কার্ড ব্যবহার করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে নাগরিকের মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তার আইডি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং তার উত্তরাধিকারীদের তথ্য যুক্ত থাকবে। এতে সম্পদের উত্তরাধিকার নির্ধারণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, জমির নামজারি, দলিল সম্পাদন, ব্যাংক হিসাব খোলা, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ওই কার্ড বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এতে সবাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং তথ্য গোপনের সুযোগ কমে যাবে।
প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, সিম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রেও ওই কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নাগরিকদের ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট হালনাগাদ করার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের একটি সমন্বিত নাগরিক পরিচয়ব্যবস্থা চালু হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার কমবে এবং সরকারি সহায়তা যেমন ভিজিএফ চাল বিতরণ, ত্রাণ বা ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম আরও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রস্তাবদাতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকরা বিবেচনা করলে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও আধুনিক হয়ে উঠবে।