জলকপাট না থাকায় ভোগান্তিতে তিন গ্রামের মানুষ

জাহাঙ্গীর আলম:

জলকপাট না থাকায় রাঙ্গাবালীর অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। জলাবদ্ধতায় আগাছা জন্মে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নৌপথ। পানি চলাচল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে জলকপাট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

নদীবহুল উপজেলা রাঙ্গাবালীতে অধিকাংশই মেঠোপথ। শুকনো মৌসুমে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল আর বর্ষায় তিন তক্তার ডিঙ্গি নৌকাই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। তাই এ এলাকায় নৌপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি হাসপাতালে নিতে হলেও নৌপথই একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এমন নৌপথই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

২০০০ সালে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত জলকপাট নির্মাণ করা হয়নি। জলকপাট না থাকায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন খাল জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং আগাছায় ভরে গেছে।

এমনই একটি খাল বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী খাল। ২০২০ সালে সরকারি উদ্যোগে খালটি খনন করে আগাছা পরিষ্কার করা হলেও জলকপাট না থাকায় তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। আগাছায় ভরে যাওয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কাটাখালী, চারখালী ও টুঙ্গীবাড়িয়া গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দারছিরা মরা নদী থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে টুঙ্গীবাড়িয়া গ্রাম হয়ে আগুনমুখার শাখায় মিলিত হয়েছে কাটাখালী খাল। ওয়াপদার বেড়িবাঁধের পশ্চিম দিকে আটকে থাকায় খালটি এখন বদ্ধ খালে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগাছায় ভরে যাওয়ায় নৌ চলাচল সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে।

কাটাখালীর বাসিন্দা জাকির হোসেন, ছোবহান মিয়া, টুঙ্গীবাড়িয়ার ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে জানান, পশ্চিম দিক দিয়ে বেড়িবাঁধের উপর একটি জলকপাট নির্মাণ করা হলে এই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তারা আরও বলেন, যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে জলকপাটের বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *