ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বে সহযোগীকে নৃশংস হত্যা, ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করল পিবিআই, গ্রেপ্তার আরও ২

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আবু রায়হান রিপন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লুলেস থাকা এই ঘটনায় নতুন করে আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের গাছা ও শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রুহুল আমিন (৩৯) এবং মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে মানিক মিয়া (৪১)।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নিহত আবু রায়হান রিপন ও গ্রেপ্তার আসামিরা সবাই একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত ও দস্যু চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল।

পিবিআই জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় প্রাপ্ত লুণ্ঠিত অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে রিপনের সঙ্গে অন্যান্য সহযোগীদের তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ থেকেই আসামিরা রিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১১ জানুয়ারি রিপনকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।

পরদিন ১২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান সাকিনস্থ নিকুঞ্জ পল্লী রিসোর্টের পাশ দিয়ে যাওয়া রূপগঞ্জ–কালীগঞ্জ হাইওয়ের ওপর থেকে রিপনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় নিহত রিপনের ভাই মো. লাল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই-এর তদারকিতে আসলে এসআই (নি.) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ফোনের কললিস্ট, লোকেশন ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একে একে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং হত্যার পেছনের ভয়াবহ পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামি মো. বেলাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

পিবিআই সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে। তারা একটি পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।

এ ঘটনায় এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মো. ইয়াছিন (২৭) নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন আশা প্রকাশ করেছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *