স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের এক সার্ভেয়ার রকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, দুর্ব্যবহার ও দালালচক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, নিজের জমি সংক্রান্ত একটি শুনানির বিষয়ে গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি অফিসে ঘুরছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেও সার্ভেয়ার রকিবুল ইসলাম নানাভাবে তাকে ঘুরাচ্ছেন। ওই ভুক্তভোগীর ভাষ্য, “এসিল্যান্ড মহোদয় কাজটি করে দিতে বলেছেন। কিন্তু সার্ভেয়ার রকিবুল ইসলাম নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। কখনো বলেন কাগজপত্র ঠিক নেই, কখনো বলেন পরে আসতে। আজ শুনানির দিনেও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।”
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার রকিবুল ইসলাম প্রকাশ্যেই বলেন, “এসিল্যান্ড তার কাজ করবেন, আমি আমার কাজ করব।” এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রেখে অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সার্ভেয়ার রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে কোনো ফাইল দ্রুত অগ্রসর হয় না। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দালালদের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলেও সরাসরি গেলে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কানুনগো অধিকাংশ সময় অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কাজ সার্ভেয়ার রকিবুলই দেখভাল করেন। ফলে একটি পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলেও কার্যত আরেকজন সব দায়িত্ব পালন করছেন—যা প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এখানে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। একজন সার্ভেয়ারের আচরণ এতটাই রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত অভিযোগগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।