স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর তুরাগ থানা-ধীন দিয়াবাড়ী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল এস’-এর তিন সাংবাদিক এবং বাংলা টিভির এক সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন-এর পূর্ব পাশে ‘উত্তরা সেন্টার ফুড কোর্ট’-এর সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, চ্যানেল এস-এর স্টাফ রিপোর্টার শাহাদাত হোসেন ইমরান, সিটি রিপোর্টার সীমা প্রধান, রিপোর্টার শান্ত মাহমুদ এবং বাংলা টিভির সাংবাদিক মিজানুর রহমান। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলামও হামলায় গুরুতর আহত হন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নূরে আলম (৩৩) নামের এক যুবকের সঙ্গে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের (৩৪) বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নূরে আলম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হলে তারা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিয়াবাড়ী ফুড কোর্ট এলাকায় যান। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই নূরে আলমের নেতৃত্বে ১০–১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমা আক্তার (২৬) ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্ত মো. হৃদয় (২৫) তাকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। আঘাতটি তার চোখের ওপর লাগে, ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় শান্ত মাহমুদ (২৫), মিজানুর রহমান (৩০) ও আমিনুল ইসলামও মারাত্মকভাবে আহত হন।
হামলাকারীরা আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি Samsung S23 Ultra 5G স্মার্টফোন ভেঙে ফেলেছে। ফোনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূরে আলম ও তার সহযোগী আলামিন (২৭)-কে আটক করেছে। তবে হামলায় জড়িত অন্যান্যরা এখনও পলাতক।
তুরাগ থানার ইন্সপেক্টর মো. টোকনুজ্জামান জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুইজনকে আটক করা হয়েছে।