এন আলম রাসেল চৌধুরী:
দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখে রাজকীয় সংবর্ধনা ও জনসমুদ্রে ভাসলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
স্মৃতি ও আবেগের চট্টগ্রাম
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর পরিবারের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন:
“চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দিয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সাথে আমার ও আমার পরিবারের এক আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।”
নতুন বাংলাদেশ ও অর্থনৈতিক সংস্কার
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি অর্থবহ পরিবর্তনের কথা বলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
-
কৃষি বিপ্লব: কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা।
-
কর্মসংস্থান: চট্টগ্রামে নতুন নতুন ইপিজেড স্থাপন করে বাণিজ্যিক রাজধানীকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া।
-
খাল খনন কর্মসূচি: চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে আবারও ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি শুরু করার অঙ্গীকার।
সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
আগামীতে সরকার গঠন করলে আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, অতীতে বিএনপি নিজের দলের লোকের অন্যায়ও ছাড় দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। তিনি বলেন, “বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
নির্বাচনী নির্দেশনা: ‘তাহাজ্জুদ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যান’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এক ভিন্নধর্মী নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদ পড়ে মহান আল্লাহর সাহায্য চাইবেন। এরপর ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। কোনো ষড়যন্ত্র যেন আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।”
নিরাপত্তার চাদরে বন্দরনগরী
শনিবার সন্ধ্যায় বিমানে করে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো শহর ছিল উৎসবমুখর। তবে নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন ছিল কঠোর। পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিশ্লেষণ:
২০০৫ সালের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে বক্তব্য শেষে তিনি ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রাস্তায় দুই পাশে লাখো জনতার অপেক্ষা, তারেক রহমানের গাড়ি বহর দেখে সর্বস্তরের সবাই আনন্দ উল্লাসে ধানের শীষ প্রতীক, ‘তারেক-জিয়া’ স্লোগানে মেতে ওঠেন। মিরসরাই এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা অতিক্রম করার সময়, সর্বস্তরের সকল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একটাই ধ্বনি: “তারেক-জিয়া জিন্দাবাদ”।