মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ক্রমবর্ধমান হারে কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নৃশংস হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, উত্ত্যক্তকরণ এবং যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের সহিংসতার প্রতিবাদে ও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি রীনা আহমেদ।
বক্তব্য প্রদান করেন জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আন্দোলন সম্পাদক সাহানারা বেগম এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন।
সভায় বক্তারা বলেন, অদ্ভুত এক ঘোড়ার পিঠে চলছে স্বদেশ। দুর্বৃত্তরা যা খুশি তাই করছে, অথচ সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যেন কিছুই করার নেই। নরপশুরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং তাদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হচ্ছে কন্যাশিশু ও নারী। এছাড়া উগ্র মৌলবাদীদের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির সুযোগে অপরাধীরা সারাদেশে কন্যাশিশুদের টার্গেট করে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডে সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়াকে বিভাগের এক কর্মচারীর হাতে কুপিয়ে হত্যা, নরসিংদী ও ভোলায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, পাবনায় দাদীকে হত্যা করে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের অভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, সমাজে বিকৃত রুচির কাপুরুষদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা নারী ও শিশুদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। পুরুষ সমাজের উচিত এসব কুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে এবং নারী ও কন্যাশিশুরা ঘরে-বাইরে সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি জানান, দ্রুততম সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা সংঘটিত হবে, সেখানেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং নারী-পুরুষ নয়, মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশ চরম অন্ধকারে তলিয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন তারা।
মানববন্ধনে জেলা ও পাড়া কমিটির অর্ধশতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।