নলছিটিতে নারীকে শারীরিক নির্যাতন ও কবরস্থানের বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের বিরাট গ্রামে এক নারীকে শারীরিক নির্যাতন, পারিবারিক কবরস্থানের বেড়া ভাঙচুর এবং দুই বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই নারী ঝালকাঠি আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেও প্রতিপক্ষ বাচ্চু হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, ইউনুস হাওলাদার, সাকিব ও আরাফাতের ভয়ে এলাকার অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা-মামলার শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নলছিটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী শামিম হাওলাদার ও নির্যাতনের শিকার মুন্নি আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. শামিম হাওলাদার অভিযোগ করেন, সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরাট গ্রামে মো. শহিদ হোসেন মেম্বারের বাড়ির সামনে তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। পাশের বাড়ির বাসিন্দা বাচ্চু হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, ইউনুস হাওলাদার, সাকিব ও আরাফাতসহ কয়েকজন তাদের পারিবারিক কবরস্থানের দেওয়া বেড়া ভেঙে ফেলে। কবরস্থানের ভেতরে নিজেদের জমি রয়েছে দাবি করে তারা বেড়া ভাঙচুর করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁর বাবা আব্দুল জলিল হাওলাদার ও দাদা শাহজাহান হাওলাদারকে মারধর করে প্রতিপক্ষরা। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র রামদা নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তারা দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ঘটনার একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ নলছিটি থানায় বাচ্চু হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, ইউনুস হাওলাদার, সাকিব ও আরাফাতের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অভিযুক্ত বাচ্চু হাওলাদার এলাকায় একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ওই বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার এক নারীও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ওই বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় তিনি ২ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি আদালতে বাচ্চু হাওলাদার, লালন, মনির হাওলাদার, হারুন হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, আরাফাত ও সাকিবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, অত্যাচার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাচ্চু হাওলাদার বলেন, “আমাদের সঙ্গে শামিমদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আমরা তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *