নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় বহুতল ভবনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, বিশেষ করে আটি হাউজিং ও নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় সুকৌশলে গড়ে উঠেছে অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শতশত অবৈধ গ্যাস সংযোগ। তেমনি একটি বহুতল ভবন সিদ্দিরগঞ্জ হাউজিং আটি এলাকার বাড়ির মালিক আমানুল্লাহর বাড়ি।

স্থানীয় তথ্য মতে এবং সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাড়ির মালিক তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও এলাকার কিছু সিন্ডিকেটের সহায়তায় আমানুল্লাহ তাঁর বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিল্ডিংয়ের একাধিক ইউনিট চালাচ্ছেন। অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে এই বাড়ির মালিক আমানুল্লাহর পক্ষে পাশের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকা তাঁর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা হলে তাঁদের দাবি, বাড়িটিতে ১৬টি ইউনিট রয়েছে এবং ৮টি চুলা তিতাস কর্তৃপক্ষ থেকে পাশ করানো। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, বাকি ৮টি ইউনিটের গ্যাস সংযোগ কীভাবে পেল?

পাশাপাশি বাড়িটিতে আরেকটি অদ্ভুত বিষয় হলো—বাড়ির কোনো নেমপ্লেট নেই। তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, তিতাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন বাড়ি থেকে অবৈধ চুলা বিচ্ছিন্ন করেছিল। স্থানীয়দের তথ্য মতে জানা যায়, আমানুল্লাহর বাড়ি থেকেও কিছুদিন আগে তিতাস কর্তৃপক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে অবৈধ চুলাগুলোর লাইন বিচ্ছিন্ন করেছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু ঠিকাদার এবং তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন বাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ফেলছে এলাকাবাসীকে। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং ও আশেপাশের এলাকায় এভাবেই শতাধিক বহুতল ভবনে অবৈধ গ্যাস লাইন ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট স্থানীয় ঠিকাদার ও তিতাস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিনিয়ত এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে মাসোহারা হিসেবে কিছু সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ঝুঁকির দিক থেকে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অবৈধ সংযোগের কারণে গত বছর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ২ নং ঢাকেশ্বরী শান্তিবাগ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ভাড়াটিয়ারা দগ্ধ হয়েছেন।

তাই সিদ্দিরগঞ্জ হাউজিং আটি এলাকার সচেতন নাগরিকদের জোরালো দাবি—অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারী ও ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদারভাবে পরিচালনা করুক তিতাস ও জেলা প্রশাসন। এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর যেন পুনরায় কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস লাইন দেওয়া না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা। তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *