মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির ডিউটিরত এএসআই (নিরস্ত্র) এসএম লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ১টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনা ঘটে ০৯ মার্চ সকাল ৬.১০ মিনিটে, নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে। ডিউটিরত থাকা এএসআই এসএম লুৎফর রহমানকে তিনজন দুষ্কৃতিকারী মোটরসাইকেল যোগে চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং তার সরকারি ইস্যুকৃত ১টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই-এর এজাহারের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে সদর মডেল থানা, ফতুল্লা মডেল থানা ও গোয়েন্দা শাখার যৌথ টিম অভিযান চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া থেকে মোঃ মিশাল @ বিশাল (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ১টি চাপাতি, ১টি ছোড়া এবং ১টি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পলাতক আরও তিন আসামি রয়েছে—জিয়াম @ রাফি (৩৪), ডাকু জুয়েল (২৬) এবং আরহাম (৩২)। তাদের বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878 অনুযায়ী সদর মডেল থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে আগেও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মিশাল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, বন্দর থানাধীন রেলী আবাসিক এলাকায় তিনি ছিনতাইকৃত অস্ত্র ও গুলি লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের সহযোগিতায় ২২ নং ওয়ার্ড, উইলসন রোড, রেলী আবাসিক এলাকার মোঃ শরিফ উদ্দিনের বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার মধ্যে রাত ৩.১৫ মিনিটে উদ্ধার করা হয় লাল কাপড়ের শপিং ব্যাগে মোড়ানো অস্ত্র ও গুলি।
পুলিশ জানিয়েছে, অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।