মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৮ হাজার অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ হোসিয়ারি সমিতির মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সহোদর ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুরো আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে সদর থানা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে সদর থানার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য সেমাই, চিনি, পোলাও চাল, দুধ, আলু, মসলা, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আমরা সব সময়ই অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। অতীতে বিভিন্ন কারণে আমাদের অনেক কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে এখন থেকে নিয়মিতভাবে বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও কেউ সহযোগিতা চাইলে, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের সভাপতি সজল এবং সদস্যসচিব শাহেদ আহম্মেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ঈদের আনন্দই বাড়ায় না, বরং সমাজের বিত্তবানদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।