মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০:৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আলমগীর হুসাইন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডাঃ আতিকুর রহমান, কনসালট্যান্ট, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ডাঃ নুসরাত জাহান, সাবেক সহ-সভাপতি জাতীয় বধির সংস্থা আমির হোসেন, এবং বিভিন্ন বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আলমগীর হুসাইন বলেন, “ইশারা ভাষার ব্যবহার হলো বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার” – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজকের দিবস পালন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারিভাবে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। সমাজে এখনও তারা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত। তারা দেশের মূল্যবান সম্পদ। তাদের প্রতিভা ও সক্ষমতা কাজে লাগাতে আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।”
এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও পোস্টার বহন করেন, যার মাধ্যমে তারা সমাজে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও ইশারা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বাংলা ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেয়। আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন।
মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় নাগরিকরা অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কার্যক্রম এলাকার সব স্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুবিধা ও সমর্থন বাড়াবে।