নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডে পদ্মা সিটি প্লাজা-১ এ বিপজ্জনক রং ও রাসায়নিক দোকান পরিদর্শন করলেন সিইও মোহাম্মদ জাকির হোসেন

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ১৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পদ্মা সিটি প্লাজা-১ এ বিভিন্ন দোকানে রং ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ (কেমিক্যাল) সংরক্ষণ ও বিক্রি সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। রবিবার সকালে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

পরিদর্শন দলের সঙ্গে ছিলেন নাসিকের সচিব মোঃ নূর কুতুবুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মশিউর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাশেম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল আরেফীন।

পরিদর্শনে উঠে আসে নিরাপত্তাহীনতার বিভিন্ন চিত্র

পদ্মা সিটি প্লাজা-১ এ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবগুলো দোকানেই বিভিন্ন দাহ্য রং, থিনার, হার্ডনার, কেমিক্যাল ও দ্রাব্য পদার্থ অরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি, নেই সঠিক বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা। এ অবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রতি জরুরি সতর্কতা প্রদান করেন সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সিইও মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, “এসব দোকানে যেভাবে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তো রয়েছেই, পাশাপাশি আশেপাশের মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো, যদি নির্দেশনা মানা না হয়।”

ব্যবসায়ীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা

পরিদর্শন শেষে রং ও রাসায়নিক পণ্য বিক্রেতা ব্যবসায়ীদের নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়:

  • কোনো প্রকার দাহ্য কিংবা বিস্ফোরণযোগ্য পদার্থ অবৈধভাবে মজুদ বা বিক্রি করা যাবে না।

  • বিক্রিত পণ্যের তালিকা দোকানের দৃশ্যমান স্থানে টানাতে হবে।

  • দোকানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র লাগাতে হবে।

  • সিটি কর্পোরেশন বরাবর একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অঙ্গীকার থাকবে।

  • এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন একটি কমিটি গঠন করবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগুন লাগলে পুরো বাজারই ঝুঁকিতে: ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, “একটি ছোট্ট স্পার্কই এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এসব বিপজ্জনক পদার্থ দোকানের ভেতর এভাবে খোলা অবস্থায় রাখা একেবারেই অনিরাপদ। অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আগে ততটা গুরুত্ব দেননি। তারা সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা মেনে ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নাগরিক সচেতনতার আহ্বান

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, নগরীর জনবহুল এলাকায় বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থের দোকানগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ঝুঁকি কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *