নারায়ণগঞ্জ-৪: বিএনপির জোট প্রার্থীর বিপরীতে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে মনোনয়ন সংগ্রহ, অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার হিড়িক নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উৎসাহব্যঞ্জক করে তুলেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ২৮ জন। ফতুল্লা জোটের প্রার্থী মনির হোসেন মনিরকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও ইসলামি আন্দোলন, জামায়েত ইসলাম, গণঅধিকার, বাসদ, খেলাফত মজলিস, কমিউনিস্ট পার্টি ও রিপাবলিক পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রার্থীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট প্রার্থী মনির হোসেন মনিরের বিপরীতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থিত তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করতে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন, যা জোটের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

ফতুল্লার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এই আসনের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দলের জন্য কাজ করে আসছেন, নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছেন এবং মামলাহামলা ও হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় দলের পাশে থেকেছেন। নির্বাচিত হলে তিনি ফতুল্লা-৪ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন।

অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি পূর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে বয়সের কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়। তবুও রাজনৈতিক যোগ্যতার দিক থেকে তিনি এখনও এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই আসনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র উন্নয়ন নয়, সংগঠনকেও গতিশীল করে তুলতে পারবেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলীর অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তা তাকে সমানভাবে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রমাণিত করছে।

এখন দেখার বিষয়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের “কাণ্ডারি” হিসেবে কে নির্বাচিত হবেন। জোট প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রার্থীতা নির্বাচনী হাওয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *