নিয়োগ পদোন্নতি বদলি ও দরপত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে ফখরুল হাতিয়েছেন ১০০ কোটি টাকা!

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার অপসারিত এমডি আব্দুস সালাম বেপারীর স্টাফ অফিসার ও ”রেস্টোরেশন অব ওয়াটার বডিজ ফর সাসটেইনে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন ঢাকা ওয়াটারশেড” কারিগরী সহায়তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম আউটসোর্সিং নিয়োগ,বদলি,পদোন্নতি ও দরপত্র বাণিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাকসিম এ খানের আমলে সর্বদা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে আব্দুস সালাম বেপারীর আমলেও সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। সরকার পরিবর্তন হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তার অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। দাপটের সাথে বহাল তবিয়তে থাকেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(চলতি দায়িত্ব) মো: ফখরুল ইসলাম পূর্বাচল এলাকায় পানির লাইন স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক,ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট প্রকল্পের ঢাকা ওয়াসা ফোকাল পার্সন এবং গ্রাউন্ড ওয়াটার একুফায়ার রি-চার্জ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। একাই তিন প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন।

এর আগে তিনি এন আই পি প্রকল্পের উপ-পরিচালক এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পানির লাইন স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার অপসারিত এমডি আব্দুস সালাম বেপারীর প্রধান সহযোগী ও উপকারভোগী ছিলেন মো: ফখরুল ইসলাম। দুর্নীতিবাজ এমডি আব্দুস সালাম বেপারীর প্রায় চার মাসের দায়িত্ব পালনকালে ২৫৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ,পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আব্দুস সালাম বেপারীর ৫০০ কোটি টাকা লোপাটের অন্যতম সুবিধাভোগী হচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান,নির্বাহী প্রকৌশলী মমতাজুর রহমান,উপ প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো: ইমরুল হাসান ও সালাম বেপারীর ভাই ঢাকা ওয়াসার ঠিকাদার সিদ্দিক বেপারী। সূত্রমতে, ২৫৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ এবং পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে স্টাফ অফিসার মো: ফখরুল ইসলাম একাই ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সূত্রমতে,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(চলতি দায়িত্ব) মো: ফখরুল ইসলাম এর অনিয়ম,দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের শাসনামলের শেষ সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর তাকসিম খানের প্রভাবে তদন্ত কার্যক্রম ধামাচাপা পড়ে যায়।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহোচর এবং ঢাকা ওয়াসার পলাতক ও পদত্যাগী এমডি তাকসিম এ খানের অন্যতম দোসর ও সুবিধাভোগী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং প্রক্রিয়ায় পাচার করে আমেরিকায় তাকসিম এ খানের সাথে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। তার বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। তিনি স্বস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সালাম বেপারির সাথে কানাডায়ও বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে জানাগেছে।

ঢাকা ওয়াসার ধনকুবের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম তার বৈধ-অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে সরকারকে যথাযথভাবে আয়কর প্রদান করেন না। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর ফাইলে সম্পদের তথ্য গোপন করে সরকারকে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

মো: ফখরুল ইসলাম রাজধানীতে তিনটি অভিজাত ১০ তলা ভবনের মালিক। ঢাকার লালমাটিয়াতে ১ টি ২ কোটি টাকা মূল্যের আলিশান ফ্ল্যাট, নবীনগর হাউজিং-এ কিনে রেখেছেন ৪ কাঠার প্লট। অনিতা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর পরোক্ষ মালিকও তিনি। কম্বোডিয়াতে ছোট ভাইয়ের খামারের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন । বড় ছেলে অরিত্রকে ২০২৩ সালের ১৮ জুন অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছেন ইউ.টি.এস ইউনিভার্সিটিতে লেখা পড়া করতে। অথচ বর্তমানে তার সর্বকালুল্যে বেতন প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

অনিয়ম,দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া ফকরুল ইসলাম এসব সম্পদ নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী- সন্তান, ভায়রা-ভাই, এমনকি শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নামেও গড়েছেন । দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিং প্রকল্পে ৫ নাম্বার সড়কের হোল্ডিং নং-১২, এফ ব্লকে ৬ কাঠার উপর নির্মিত ১০ তলা এপার্টমেন্ট। ঢাকা উদ্যানের ২ নাম্বার সড়কের প্লট নং-৩১, সি ব্লকে ৬ কাঠার উপর নির্মানাধীন ১০ তলা এপার্টমেন্ট এবং একই প্রজেক্টের ৩ নাম্বার সড়কের হাউজ নং-২৮, ডি ব্লকে ৪ কাঠা জমির উপর নির্মিত ১০ তলা অত্যাধুনিক আলিশান ভবন।

মোহাম্মদপুর লালমাটিয়ার ‘সি’ ব্লকের ২/৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের আটতলা ভবনের ৫ তলায় স্ত্রী নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তার’র নামে রয়েছে অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। এছাড়া, ঢাকা উদ্যানের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ের ১ নম্বর রোডে ৪ কাঠা প্লটের মালিকও ফখরুল। তবে এই প্লট স্ত্রী নাদিরার নামে ক্রয় করেছেন। সেখানে টিনশেডের ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একাধিক ব্যক্তিগত দামি গাড়িও রয়েছে এই কর্মকর্তার। বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে দশ কোটি টাকার এফডিআর। সরকারি গাড়িও নিজ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন । তার দৃশ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

গণকর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯ (সংশোধিত ২০১১) অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মকর্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ এই বিধিমালাকে অনুসরন না করেই স্ত্রী’র নামে খুলে বসেছেন রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নাম ‘অনিতা ইঞ্জিনিয়ারিং’।

২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। যার ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার-০৫-৩৭৪১৩। ফকরুল ইসলাম অবৈধ উপার্জনের টাকা বৈধ করতে স্ত্রী নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তার নামে অনিতা ইঞ্জিনিয়ারিং হাউজিং প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যবসার ধরণ হিসেবে দেখিয়েছেন একটি প্রকৌশলী ফার্ম। তিনি গ্রাহকের নিকট থেকে প্লট এবং ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা একাউন্টে নিতে রাজি নন। গ্রাহককে ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে হলে তাকে নগদ টাকা প্রদান করতে হবে। ফকরুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত একশ’ কোটি টাকা স্ত্রী নাদিয়ার নামে লাইসেন্স নেয়া অনিতা ইঞ্জিনিয়ারিং রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নামে খাটিয়ে রমরমা ব্যবসা করছেন ।

অপসারিত এমডি সালাম বেপারীর ক্যাশিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: ফখরুল ইসলাম এখনো স্বপদে বহাল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঢাকা ওয়াসার সচেতন কর্মকর্তাগণ। মো: ফখরুল ইসলাম কে সকল দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে তার বিগত দিনের সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যে বর্তমান এমডি’র প্রতি আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *