নির্দেশনা জারি হয়েছে ২০০৪ সালে, উন্মোচন হয়েছে ২০০৬ সালে — তাহলে কেন নেই মরহুম আবু তাহেরের নামফলক: আনজার শাহ

স্টাফ রিপোর্টার:

২০০৪ সালে সরকারি নির্দেশনা জারি হয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচনও হয়েছে। যৌথ বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদও ছাপা হয়েছে। তবু কুমিল্লার ঐতিহাসিক লালমাই-বরুড়া-জগতপুর ভায়া ঝলম-আড্ডা সড়কের লালমাই প্রান্তে আজও স্থাপিত হয়নি মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের এমপির নামফলক। দুই দশকের এই অমার্জনীয় প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক মোঃ আনজার শাহ এবং বিষয়টি সরাসরি পৌঁছে দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের মন্ত্রণালয়ে।

ইতিহাসের সেই অসম্পূর্ণ অধ্যায়
কুমিল্লার লালমাই-বরুড়া-জগতপুর ভায়া ঝলম-আড্ডা সড়কটি জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। এই সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল কুমিল্লা অঞ্চলের উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখা প্রয়াত সংসদ সদস্য মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহেরের নামে।
২০০৪ সালের ২ অক্টোবর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, সড়ক পরিবহন উইং থেকে আনুষ্ঠানিক স্মারকের (নং: পিসি/টিএস/এস-২/সড়ক-৩১/২০০৩-৭১০) মাধ্যমে সড়কটির নামকরণ সম্পন্ন হয়। এরপর ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরুড়া পৌরভবনের সামনে কলেজ রোডের মোড়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সড়ক” নামে ফলক উন্মোচন করেন।
কিন্তু সেই ঐতিহাসিক উন্মোচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সড়কের উৎসস্থল লালমাই প্রান্তে সরকারি ডায়াগ্রাম অনুযায়ী কোনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি। ফলে দুই দশক ধরে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

যৌথ বাহিনীর কাছে অভিযোগ, তবু নীরবতা
এই দীর্ঘ অবহেলার বিরুদ্ধে বরুড়ার সোনাইমুড়ি গ্রামের সমাজসেবক মাওলানা ইউসুফ নিজামী যৌথ বাহিনী প্রধানের (বরুড়া ও লাকসাম ইউনিট, কুমিল্লা) কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, সরকারি নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রীর উন্মোচনের পরও লালমাই অংশে নামফলক স্থাপন না হওয়ায় মরহুম আবু তাহের এমপির স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে চরমভাবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে এবং এটি দ্রুত স্থাপন করা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
কিন্তু সেই লিখিত অভিযোগের পরও যৌথ বাহিনীর তরফে কোনো সাড়া মেলেনি। প্রশাসন রয়ে যায় সম্পূর্ণ নীরব ও নিষ্ক্রিয়।

কলম ধরলেন সাংবাদিক আনজার শাহ
যৌথ বাহিনীর এই নির্লজ্জ নীরবতার বিরুদ্ধে কলম ধরেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-দপ্তর সচিব এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনজার শাহ।
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার ব্যাক পেজে এবং ২৭ অক্টোবর ২০২৫, সোমবার স্থানীয় পত্রিকা কুমিল্লা প্রতিদিনে তিনি প্রকাশ করেন গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনের হেডলাইন ছিল —
“মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সাবেক এমপির নামে নামকরণ হলেও দুই দশকেও স্থাপিত হয়নি ফলক।”
জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও বিষয়টি রাষ্ট্রযন্ত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এবার সরাসরি মন্ত্রণালয়ে
সব পথ রুদ্ধ দেখে সাংবাদিক আনজার শাহ প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সঙ্গে নিয়ে সরাসরি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংবাদের কাটিং দেখে একান্ত সচিব গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিক আনজার শাহের কাছে বিষয়সংক্রান্ত সকল দলিলপত্র ও প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে বলেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক আনজার শাহ বলেন, “২০০৪ সালে নির্দেশনা জারি হয়েছে, ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নিজে ফলক উন্মোচন করেছেন। তারপরও বিশ বছর ধরে লালমাই প্রান্তে ফলক নেই — এই প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতেই হবে। মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিব আশ্বাস দিয়েছেন, এবার যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলতেই থাকবে।”

লাখো মানুষের প্রতিদিনের সড়ক, তবু ফলকহীন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের এমপি কুমিল্লা অঞ্চলের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে যে অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাঁর নামে নামকৃত এই সড়ক আজও জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের লাখো মানুষকে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ যাঁর নামে এই সড়কের পরিচয়, তাঁর স্মৃতি রক্ষায় প্রশাসন বারবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এবার কি মিলবে সুরাহা?
একান্ত সচিবের আশ্বাসে নতুন করে প্রত্যাশার আলো জেগেছে বরুড়াবাসীর মনে। তাঁদের দৃঢ় প্রত্যাশা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কুমিল্লা এবার দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। লালমাই প্রান্তে “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সড়ক” নামফলক স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দশকের এই বেদনাদায়ক ও অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের চিরসমাপ্তি ঘটবে — এটাই এখন সমগ্র বরুড়াবাসীর একমাত্র প্রাণের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *