বাংলা পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম দিন। দিনটি বাঙালি জাতির জন্য এক ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের উৎসব। শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, হালখাতা উৎসবসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হয়।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিবেদক ব্যুরো চীফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপীর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। তাই নববর্ষ তার কাছে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ড সুলতান গিয়াসউদ্দিন রোড, তামাকপট্টি—তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী ১৯৯৭ সালে সরকারি ঢাকা কলেজ (ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন। সাংবাদিকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি একতা সাইন ডিজিটাল হাউস এন্ড ল্যান্ড মিডিয়া ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকা ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার ব্যুরো চীফ হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং অনলাইন পোর্টাল সতর্কবাণী বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার কর্মী হিসেবে নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়। তিনি কাশতি ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ট্রাস্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নিজ মহল্লা তামাকপট্টি বায়তুল আমান জামে মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৫ বছর মুসল্লিদের খেদমতে ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ৩৬০ আউলিয়া অন্যতম সফর সঙ্গী সুলতানুল আউলিয়া হযরত মাওলানা সৈয়দ শামসুদ্দিন শাহ্ বোগদাদী (রহঃ) দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী ও পরিচালক গদীনিশিন খাদেমুল গোলাম হিসেবে ২০ বছর যাবত আদব, সততা ও ভক্তি-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজ এলাকায় ২০০৬ সালে পাকপাঞ্জাতন বোগদাদীয়া চিশতী খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিচারপতির হাত থেকে সাংবাদিকতা, কলাম লেখা, সংগঠন পরিচালনা ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে সম্মাননা পদক অর্জন করেছেন। এছাড়া গত বছর ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকা ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়ার পক্ষ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক’ সম্মাননাও লাভ করেন।
মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী শীতলক্ষ্যা সমাজকল্যাণ ক্লাব নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।
একইসঙ্গে একজন সফল ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া হাউস ব্যবসায়ী হিসেবে একতা সাইন তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে। তিনি মনে করেন, ব্যবসায় সফল হওয়ায় সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা তার জন্য সহজ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের শৈশব-কৈশোরে পহেলা বৈশাখে যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। আগে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই হালখাতা উৎসবে একে অপরকে নিমন্ত্রণ করত। কিন্তু এখন সেই চিত্র আর তেমন দেখা যায় না। আমরা দিন দিন সম্প্রীতির বন্ধন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং সবকিছুতেই ধর্মীয় বিভাজন টেনে আনছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। তাই পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই বাঙালির প্রকৃত সার্থকতা।”
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন—
“শুভ বাংলা নববর্ষ।”