মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে আগের আরও পাঁচটি মামলা আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় থাকায় এই মুহূর্তে কারামুক্ত হতে পারছেন না তিনি।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হত্যা ও পুলিশের কাজে বাধা সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় তার করা পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজুসহ অন্যরা।
যে পাঁচ মামলায় জামিন
হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা, আব্দুর রহমান হত্যা মামলা, মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা, পারভেজ হত্যা মামলা এবং পুলিশের কাজে বাধা দানের মামলা। প্রথম চারটি হত্যা মামলার বাদী নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এসব মামলা ফতুল্লা মডেল থানা–এ দায়ের করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক ও ভুঁইগড় এবং দেলপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় বিভিন্ন বয়সী চারজন নিহত হন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে পৃথক হত্যা মামলা করা হয়, যেখানে সাবেক মেয়র আইভীকেও আসামি করা হয়।
অন্য মামলাটি দায়ের করে সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়, আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১২ মে পুলিশ মামলা করে। এতে আইভীর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার ও আগের জামিন আদেশ
২০২৫ সালের ৯ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত মিনারুল হত্যা মামলায় আইভী গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। সে সময় পুলিশ তাকে মোট পাঁচটি মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখায়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেন–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই পাঁচ মামলায় আইভীকে জামিন দেন। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিন আদেশ স্থগিত করেন। ফলে আগের পাঁচটি মামলা এখনও আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য
আইভীর অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, সর্বশেষ পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আগের মামলাগুলোর আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে আপিল বিভাগের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নতুন পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ায় আইভীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে একধাপ অগ্রগতি হলেও আগের মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মুক্তি অনিশ্চিতই থাকছে। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।