পিংকির দাপটে গ্রামে নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ, মামলা নিয়ে উত্তেজনা

মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়া গ্রামে মোছাঃ নাসরিন সুলতানা পিংকির দাপটে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ ও উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পিংকি বাদী হয়ে নেত্রকোনা জেলা আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে (মামলা নং ৫১/২৫) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের কুদ্দুছ আলীর ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট জানা গেছে, পিংকির পিতা ও কুদ্দুছ আলীর পরিবার পূর্বে জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। কিন্তু জমির ধান পাঠানোর বিষয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কুদ্দুছ আলী ধান কাটতে গেলে পিংকি ও তার অনুসারীরা বাধা দেন এবং জোরপূর্বক ধান ছিনিয়ে নেন। বাধা দেওয়ায় বর্গা চাষীকে মারধর করা হয়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা হাসপাতালে নিলে, ডাক্তার তার অবস্থা শোচনীয় দেখিয়ে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্বলতার সুযোগে পিংকি বাদী হয়ে কোর্টে মামলা করেন। গ্রামবাসী মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও মিথ্যা মামলা, যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে মামলা ফাঁসিয়ে ভয় দেখানো এবং অর্থ হাতানো। এলাকাবাসী এ বিষয়ে মানববন্ধন করেছেন এবং মামলার দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তবে, মামলাটি এখনও প্রত্যাহার হয়নি।

গ্রামবাসী আরও জানান, পিংকি মামলা করা তাদের ‘পেশা ও নেশা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার সাধারণ জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের মিথ্যা মামলা গ্রামে শান্তি ও সামাজিক সমন্বয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই বিষয়ে এলাকার প্রবীণ ও সচেতন নাগরিকরা জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গ্রামে এই ঘটনায় আলোচনা, সমালোচনা ও কানা-ঘোসুর ঝড় উঠেছে। অভিযোগপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেনঃ মোঃ মাহীজ উদ্দিন, আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, মোঃ কালাম মাস্টার, মোঃ আলামিন মিয়া, মোঃ হানিফ মিয়া, মোঃ দুলাল মিয়া, মোঃ লাল চাঁন মিয়া, মোঃ সোহেল মিয়া, মোঃ আবু চাঁন মুন্সী, মোঃ আব্দুল গফুর, মোঃ হাসিম মিয়া, মোঃ সাহেব আলী, মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ কামাল মিয়া, মোঃ আব্দুল জব্বার, মোঃ মামুন মিয়া, মোঃ রজব আলী, মোঃ হেকমত আলী, মোঃ হাসিম চৌধুরী, মোছাঃ হালেমা খাতুন, মোছাঃ বাসনা আক্তার, মোছাঃ জহুর আক্তার, মোছাঃ আনোয়ারা খাতুন, মোছাঃ মজীদা আক্তার, মোছাঃ জমিলা খাতুন, মোছাঃ লক্ষী আক্তার, মোছাঃ ফাতেমা আক্তার সহ আরও অনেকে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং মিথ্যা মামলা ও স্থানীয় উত্তেজনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *