মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসাইনকে হত্যার মামলার অন্যতম আসামি মোঃ সুমন হোসাইনকে ফতুল্লা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা থানার কুতুবাইল এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে মামুন হোসাইনকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা (নম্বর ০৯, তারিখ: ০৮/০২/২৫, ধারাঃ ১০৯/৩০২/৩৪ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।
মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি মোঃ সুমন হোসাইন, পিতা: মৃত আলাউদ্দিন, মাতা: মৃত শাহানুর বেগম, সাং: কুতুবাইল, থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জকে ১৪ অক্টোবর ২০২৫ বিকেল ৪.৩০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানার কাঠেরপুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ রফিক এবং সঙ্গীয় ফোর্স তথ্য প্রযুক্তি এবং বিশ্বস্ত সোর্সের সহায়তায় সুমনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারির সময় র্যাব-১১ এর একটি অভিযানিক টিমও পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে।
গ্রেফতার হওয়া সুমন হোসাইনকে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় একটি পৃথক হত্যা মামলারও আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে নিরাপদে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সুমনের গ্রেফতারি মামুন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের মূল ছায়াছবি উন্মোচিত হবে এবং সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ফতুল্লা থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং পুলিশ সব দিকেই নজর রাখছে। পুলিশ বলেছে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল বলছে, হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় জনগণকে আইনের প্রতি বিশ্বাস জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামুন হোসাইনের পরিবারও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সকল যোগসাজশকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।