মোঃআনজার শাহ
“অতীতের সকল ব্যর্থতা, বেদনা আর গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন আলোয় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের নামই পহেলা বৈশাখ” — এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় বরুড়াবাসীসহ সমগ্র বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান রনি।
নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন সূচনা,
নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি তারিখ নয় — এটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রকাশ। পান্তা-ইলিশের সুবাস, নতুন শাড়ি-পাঞ্জাবির রঙিন সাজ আর দলবেঁধে বৈশাখী মেলায় আনন্দে মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালি খুঁজে পায় তার শিকড়ের টান।
রমনার ঘাসে জাতীয় বন্ধনের সুর,
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ ও বাংলা বর্ষবরণের জমজমাট আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশ। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনা উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় লাখো মানুষের জনস্রোতে তৈরি হয় এক অপূর্ব জাতীয় বন্ধন। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটেন কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, ব্যবসায়ী-চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির মহোৎসব,
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, পহেলা বৈশাখ কোনো একক ধর্ম, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের উৎসব নয় — এটি ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতির মিলনোৎসব। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ একই আনন্দধারায় একসঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করেন। এটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য ও গৌরবময় দৃষ্টান্ত।
ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে চলার আহ্বান,
তিনি আরও বলেন, “এই পবিত্র দিনে আমরা সমস্ত ভেদাভেদ, হিংসা ও বিভেদ ভুলে একসঙ্গে দাঁড়াই। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় পহেলা বৈশাখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনে অনাবিল সুখ, অফুরন্ত সমৃদ্ধি ও চিরন্তন শান্তি বয়ে আনুক।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান,
শুভেচ্ছা বার্তার শেষে তিনি সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন —
“আসুন, আমরা সবাই পহেলা বৈশাখের আনন্দ-উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করি এবং সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত প্রসারিত করি। এটাই হোক এ বছরের নববর্ষের সবচেয়ে বড় শপথ।”