ব্যবসার কথা বলে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জিডি

পিন্টু শেখ:

রাজধানীর কোতয়ালী থানায় ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন সিকদার অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন সিকদার (৪১) রাজধানীর পাটুয়াটুলী এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় তার “মক্কা ট্রেডিং কর্পোরেশন” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিচিত ব্যবসায়ী মো. শেখ মোহন তাকে লাভজনক ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, প্রথমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে নেওয়া হয়। পরে আরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে জমি কেনার কথাও বলে তার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান মেজবাহ উদ্দিন।

মেজবাহ উদ্দিন সিকদার আরও অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে তাকে ফোনে ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাকে বলা হয়, “আপনি কিসের টাকা পাবেন—এ নিয়ে আর কোনো ঝামেলা করবেন না।”

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর তাকে কেরানীগঞ্জ এলাকায় ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

এদিকে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ আগস্ট রাত প্রায় ১০টার দিকে কোতয়ালী থানার ওয়াইজঘাট এলাকার ব্যাটারি গলিতে শেখ মোহনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা চাইলে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে মেজবাহ উদ্দিন সিকদার বলেন, “আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। কারো সুপারিশ বা চাপ আমি গ্রহণ করব না। আদালত ও আইনের মাধ্যমেই আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই।”

ঘটনার বিষয়ে কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *