স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ কুতুবখালী, কাজলা ও যাত্রাবাড়ি সড়ক—যা প্রতিদিনই হাজারো যানবাহনের চাপ সামলাতে বাধ্য। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানজটের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সড়কটি দিয়ে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ হওয়ায়, প্রতিদিনই কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বসাধারণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তবে এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রাবাড়ি থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মিজান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমিত জনবল নিয়ে প্রতিদিনই তিনি মাঠে নেমে কাজ করছেন। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, মাছ আড়ৎ, জরুরি সড়ক, স্কুল-কলেজ এলাকা এবং রোড সংযোগস্থলে তিনি নিয়মিত নজরদারি চালান।
টিআই মিজান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন,
“জনবল কম, কিন্তু কাজের পরিমাণ বিশাল। তবুও আমরা দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এলাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। লিজকৃত সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের নামে টাকা নেওয়ার বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
স্থানীয় জনগণ জানায়, ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত সক্রিয় থাকায় আগের তুলনায় বর্তমানে সড়ক কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলে তারা উপলব্ধি করছেন। বড় উৎসব কিংবা সাপ্তাহিক বাজারের দিনগুলোতেও টিআই মিজানের দল সক্রিয় থেকে সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া, তিনি পেশাদার ও প্রাইভেট গাড়িচালকদের নিয়মিত সচেতন করে তুলছেন আইন মেনে চলার বিষয়ে। বিশেষ করে জরুরি সেবা—যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা চিকিৎসাসংক্রান্ত যানবাহনের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেন,
“টিআই মিজান যদি এভাবে কাজ চালিয়ে যান, তাহলে কুতুবখালী থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি একদিন সত্যিই যানজটমুক্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, তার নেতৃত্বে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।”
নগরীর ব্যস্ততম এ এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার জটিলতা ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পৌঁছে দিতে যাত্রাবাড়ি থানার ট্রাফিক বিভাগকে প্রতিদিনই নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে টিআই মিজানের নিষ্ঠা ও দৃঢ় মনোবল শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।