যাত্রাবাড়ীতে টিআই মুন্নাফের বিরুদ্ধে পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (টিআই) মুন্নাফের বিরুদ্ধে স্থানীয় পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, টিআই মুন্নাফ নিয়মিতভাবে তাদের থেকে অনৈতিক উপায়ে টাকা দাবি করছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় এক পরিবহন মালিক বলেন, “প্রতি মাসে আমাদের থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের আচরণ আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।” তিনি আরও জানান, টাকা না দিলে টিআই মুন্নাফ বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং ভয় দেখাচ্ছেন, যা পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

অন্য একজন মালিক অভিযোগ করেন, “আমাদের অনুমোদিত লাইসেন্স থাকলেও টিআই মুন্নাফ নিয়মিত আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে মাসোহারা দিতে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ন্যায্য উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না।”

স্থানীয়রা জানান, যাত্রাবাড়ী থানার এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি শুধু একটি পরিবারের বা কয়েকজনের সমস্যা নয়; বরং এলাকায় পরিবহন খাতের ব্যবসায়িক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। অভিযোগ রয়েছে, টিআই মুন্নাফ এই মাসোহারার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বারবার থানায় লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতার দাবিতে কিছু মালিক প্রকাশ্যে বলেন, “আমরা চাই স্থানীয় প্রশাসন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত করবেন। এমন আচরণ জনগণের বিশ্বাসহীনতা সৃষ্টি করছে এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।” তারা উল্লেখ করেছেন, নিয়ম ভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার টিআই মুন্নাফের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়; বরং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।

এ ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, তারা চাইছেন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে।

যাত্রাবাড়ী থানার এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, তারা ব্যবসায়িক পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে এবং এলাকার সাধারণ জনগণকে স্বাভাবিক পরিষেবা দিতে চাই, তাই অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দ্বারা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *