স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর নারিন্দা এলাকার শাহ শাহেব লেনে ছোট ও জনবহুল এক গলিতে কয়েক মাস ধরে নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই ভবনটি রাজউক জোন—৭ এর নিয়মনীতি অমান্য করে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি প্রায় নেই।
স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, ভবনটির চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ খোলা স্থান রাখা হয়নি। ফলে লেনের চলাচল প্রায় বন্ধের মতো পরিস্থিতিতে পড়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর ঢোকার পথে সংকীর্ণতা, মেশিন চলাচল ও যানজটের কারণে এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।
ভবনটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে তাকওয়া ভেঞ্চারস লিমিটেড। ম্যানেজার পরিচয়ে আকিব সাংবাদিকদের জানান, “আমরা যা করছি, তা রাজউকের নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। চাইলে রাজউকের সাথে যোগাযোগ করুন।” তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা সরাসরি রাজউক জোন—৭ এর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তদারকি প্রায়শই বিলম্বিত হয় এবং অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধ করা যায় না।
নির্মাণটি একাধিক তলা বিশিষ্ট হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অবৈধ নির্মাণের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুরক্ষা একটি বড় কারণ। নারিন্দার এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।
এছাড়াও, ভবন নির্মাণের কারণে পরজমি জমি দখল, নিরাপদ সীমারেখার অভাব এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এলাকাবাসী দাবি করছেন, “এখনও সময় আছে। যদি রাজউক তদারকি শুরু করে, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।”
রাজউক জোন—৭ এর কর্মকর্তা এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া শহরে নিয়মিত ও নিরাপদ নির্মাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নারিন্দার এই অবৈধ নির্মাণ কেস পুনরায় প্রশ্ন তুলেছে—রাজধানীর নগর পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য কতটা রক্ষা হচ্ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে এমন অবৈধ নির্মাণ শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, পুরো শহরের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।