রাজশাহীতে গোদাগাড়ীতে কিশোর শিহাবকে পুকুরে ফেলে বেধড়ক মারধর: আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে কিশোর শিহাব আলী (১৭)।
তার বাবা-মা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইসিইউর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন— ‘সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের ছেলেকে ফিরিয়ে দেন।’
চলতি বছর এসএসসি পাস করা শিহাব রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান রিপনের একমাত্র ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বড়।
গত ২০ অক্টোবর রাত আটটার দিকে বান্দুড়িয়া তেতুলতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতে শিহাবের ওপর হামলা চালায়। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। তার শরীরজুড়ে লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পরদিন অস্ত্রোপচার করা হলেও সে এখনো জ্ঞান ফেরেনি; হাত-পা কিংবা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গেও সাড়া নেই।
হামলার পর শিহাবের বাবা ২৪ অক্টোবর রাতে গোদাগাড়ী থানায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
শিহাবের স্বজনদের ভাষ্যমতে, সেদিন সন্ধ্যায় বাবার ফলের দোকান বন্ধ করে শিহাব তারেক ও হাবিব নামের দুই আত্মীয়কে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। তেতুলতলায় পৌঁছালে এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮–১০ জন দুর্বৃত্ত টর্চ ও লাঠি নিয়ে হামলা করে।
শিহাব পালিয়ে মাঠের ভেতরে ঢুকে পুকুরে ঝাঁপ দেয়, কিন্তু দুর্বৃত্তরা পিছু নিয়ে তাকে পুকুরে নামিয়েই বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়রা খবর পেয়ে শিহাবকে উদ্ধার করে প্রেমতলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান, সেখান থেকে রাতেই রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে রামেক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।২৭ অক্টোবর বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন শিহাব
শনিবার দুপুরে আইসিইউর সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিহাবের মা শারমিন বেগম বলেন— ছেলেটা আমার বাঁচবে কি না জানি না। ওর অবস্থা খুবই খারাপ। যারা ওর সঙ্গে এমন করেছে, তাদের কঠিন শাস্তি চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দুড়িয়া গ্রামের দুজন বাসিন্দা বলেন, ছেলেটাকে অন্যায়ভাবে মেরেছে। গ্রামের মানুষ জানতে না পারলে হয়তো ওকে মেরেই ফেলত। পরে গ্রামবাসী গিয়ে উদ্ধার করে।” রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন,  বিষয়টি আমি জানি না, তবে আহত শিহাবের অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।  গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান—  ছেলেটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। মামলাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *