শেখ হাসিনা দেশটাকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করত: রুহুল কবির রিজভী

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 

শেখ হাসিনা এ দেশটাকে পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করত, দেশের সম্পদ—জনগণের টাকাকে নিজের মনে করত। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমস্ত ব্যাংকে ফুটো করে হাজার কোটি টাকা তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ দলের লোকেরা বিদেশে পাচার করেছে।

শনিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জুলাই–আগস্টে চট্টগ্রামে আহত ও শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

বিএনপির মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠন “আমার বিএনপি পরিবার”-এর আয়োজনে আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে হাটহাজারী পৌরসভার মিরেরহাট এলাকার মীরবাড়িতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার সমালোচনা করে আরও বলেন, ঢাকা শহরে নিজের জায়গা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী কেউ রাজউকের প্লট পেতে পারে না। কিন্তু আইন-কানুন তোয়াক্কা না করে আত্মীয়স্বজনের নামে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জায়গা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রধানমন্ত্রীর লোকদের নামে আত্মসাতের অভিযোগ থাকে, কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেই আত্মসাতে জড়িত ছিলেন। ব্যাংকের ভল্টে যার নামে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ পাওয়া গেছে। জনগণের টাকা দিয়ে স্বর্ণ কিনে ভল্টে সংরক্ষিত করেছেন; কিন্তু ভুলে গেছেন বাদশাহ শাদ্দাত নিজের বেহেস্তে নিজে ভোগ করতে পারেননি। শেখ হাসিনার পরিণতিও তাই হলো। আল্লাহ এর দৃষ্টান্ত দিয়ে রেখেছেন নমরুদ–ফেরাউন দিয়ে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিরাপদে হরিলুট করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পথের কাঁটা মনে করে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে যত ধরনের চক্রান্ত—সব করেছে। খালেদা জিয়া হেঁটে হেঁটে জেলে গেলেন, আর ফিরে আসলেন হুইলচেয়ারে করে। দিনের পর দিন হাসপাতালে কাটাতে হচ্ছে। তিনি আজ মৃত্যুর সন্নিকটে। শেখ হাসিনার কারণেই আজ তিনি মৃত্যুশয্যায়।

এসময় প্রধান অতিথি দলের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান।

সাংবাদিক রনির উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন—চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের উপদেষ্টা আবুল কাশেম, সদস্য সচিব মো. মোকছেদুল মোমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জুলাই–আগস্টে হতাহত ৪০টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। শেষে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

এসময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, পৌরসভার মো. জাকের হোসেন, সদস্য সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন, অহিদুল আলম, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সেক্রেটারি মনিরুল আলম জনি–সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *