স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হলো যানজট। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি কাজে বের হয়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন। যানজটের কারণে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ–এর ট্রাফিক বিভাগ।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে একটি হলো যাত্রাবাড়ী থানাধীন ডেমরা রোড। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মোটরসাইকেল এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বিশেষ করে কাজলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট শুভ।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানবাহনের চাপের মধ্যেও সার্জেন্ট শুভ অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড রোদ, ধুলোবালি কিংবা যানবাহনের চাপ—কোনো কিছুই যেন তাকে দায়িত্ব পালনে দমাতে পারেনি। তিনি সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিয়মিতভাবে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন, চালকদের সিগন্যাল মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং যানজট কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
স্থানীয় পথচারী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার্জেন্ট শুভ দায়িত্ব পালনে বেশ আন্তরিক। অনেক চালক জানান, তিনি শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই করেন না, বরং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনও করেন। কোনো গাড়ি নিয়ম ভঙ্গ করলে তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন, তবে একই সঙ্গে চালকদের সতর্ক করে দেন।
একজন সিএনজি চালক বলেন, “প্রতিদিনই আমরা দেখি সার্জেন্ট শুভ সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি কঠোর হলেও মানুষের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করেন। তার কারণে অনেক সময় এই এলাকায় যানজট কম থাকে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ডেমরা রোডের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ কাজ নয়। তবে সার্জেন্ট শুভ ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় অনেক সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট শুভ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। যানজটমুক্ত ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এজন্য সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, চালক ও পথচারীরা যদি সচেতনভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে রাজধানীর যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে সার্জেন্ট শুভর মতো দায়িত্বশীল ট্রাফিক সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টাই নগরবাসীর যাতায়াতকে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক করে তুলছে। তাদের নিষ্ঠা ও সততার এই কর্মপ্রচেষ্টা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।