মোঃআনজার শাহ :-
একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবার সরাসরি নাড়া দিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলকে। দেশের বন উজাড়, হাতি হত্যা, পাথর লুট ও পাহাড় ধ্বংস নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশকারী সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফকে সম্প্রতি ডেকে পাঠালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ আলোচনায় বন, পরিবেশ ও কৃষি খাতের সংকট নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন তিনি। পরিণতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
যেভাবে শুরু হলো এই অসাধারণ যাত্রা,
সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে দেশের পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিলেন। কীভাবে নির্বিচারে বন উজাড় হচ্ছে, কীভাবে হাতি হত্যা চলছে, সিলেটে পাথর লুট হচ্ছে এবং চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় একের পর এক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তার এসব প্রতিবেদন পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। সেই প্রতিবেদনগুলো পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও।
প্রতিবেদনগুলো পড়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নেন সাংবাদিককে সরাসরি ডেকে শোনার। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান মোস্তফা ইউসুফ।
প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা তুলে ধরলেন,
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় মোস্তফা ইউসুফ সবিস্তারে তুলে ধরেন দেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র। তিনি জানান,
বন উজাড়: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কীভাবে অবৈধভাবে বন কেটে সাফ করা হচ্ছে
হাতি হত্যা: বনাঞ্চলে একের পর এক হাতি হত্যার ঘটনা এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় ব্যর্থতার চিত্র
সিলেটে পাথর লুট:সিলেটের নদী ও পাহাড় থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি
চট্টগ্রামের পাহাড় ধ্বংস:চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে নির্বিচারে স্থাপনা নির্মাণের ভয়াবহ পরিণতি
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী,
ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী কোনো সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে বন ও পরিবেশমন্ত্রী এবং মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রীকে ফোন করেন। তিনি বলেন, *”আমি মোস্তফাকে পাঠাচ্ছি। তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।”*
এরপর মোস্তফা ইউসুফ সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রীদের বক্তব্যের নোট নেওয়া এই সাংবাদিক এবার অভূতপূর্ব এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন মন্ত্রীরা এবার তাঁর বক্তব্যের নোট নিলেন।
চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি,
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি বন উজাড় হয়েছে, সেখান থেকেই একটি বড় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে। সাংবাদিকের নিজের এলাকা থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা করতে চান তিনি। ঈদের পরে আবার বৈঠকের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
যা বললেন মোস্তফা ইউসুফ,
নিজের ফেসবুকে এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মোস্তফা ইউসুফ লেখেন,”সারাজীবন মন্ত্রীদের বক্তব্যের নোট নিয়েছি। আজকে মন্ত্রীরা আমার বক্তব্যের নোট নিলেন।”এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতির গল্প।
কলমের শক্তি, যা বদলে দিতে পারে দেশ,
মোস্তফা ইউসুফের এই অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করল সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা শুধু সংবাদপত্রের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, তা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণকেও প্রভাবিত করতে পারে। একজন সাংবাদিকের কলম থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিবেদন যখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ যায় তখন বোঝা যায়, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার শক্তি কতটা গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
দেশের বন ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত এই যাত্রার সূচনাটি হয়েছে একজন সাংবাদিকের অদম্য কলম থেকে।