সাংবাদিক নির্যাতনে চান্দিনার এসিল্যান্ড — হ্যান্ডকাফ, আটক, ভিডিও মুছে দেওয়া এবং মুচলেকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ

মোঃ আনজার শাহ:

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক চরম হেনস্তা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দেশের সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, অনলাইন নিউজ পোর্টাল “ফেস দ্যা পিপল”-এর প্রতিনিধি আব্দুল আলিম এবং দৈনিক মানবজমিন-এর চান্দিনা প্রতিনিধি রাসেল এসিল্যান্ড কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির ভিডিও ধারণ করতে যান। দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের এই স্বাভাবিক পেশাদারি তৎপরতাই তাঁদের জন্য ডেকে আনে চরম বিপদ।

অভিযোগ রয়েছে, এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ডেকে এনে দায়িত্বরত দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত সমস্ত ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণকে সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আর বড় না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আটক দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা আদায় করা হয় বলে জানা গেছে। এই মুচলেকা আদায়ের ঘটনাকে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “সত্য সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় পাঠান, ভিডিও ফুটেজ মুছে দেন এবং মুচলেকা নেন—তাহলে এ দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা বিপন্ন। এটি শুধু দুজন সাংবাদিকের উপর আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত।”

সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও সেবাপ্রার্থী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিক নির্যাতন ও প্রমাণ নষ্ট করার সাহস পান? এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হচ্ছে।

সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *