সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৬৩ নং বেনাদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে জমিদাতা সদস্য পরিচয়দানকারী মো. আরিফুল ইসলাম (লিটু) কর্তৃক হয়রানি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহীনা আক্তার চায়না-র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ অধিকারী শীলন-এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সাবেক সভাপতি এস. এম. গোলাম রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আমির হোসেন মিঠু, পাইকাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা, বসন্তপুর পোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইমরান, দত্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবদাস মন্ডল, নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু আসলাম, হাড়দ্দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবাশিষ অধিকারী, উভাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবাদ সভার পর কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার-এর নিকট জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৬ মে ৬৩ নং বেনাদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রান্তিক মূল্যায়ন চলাকালে ভুয়া জমিদাতা সদস্য পরিচয়দানকারী মো. আরিফুল ইসলাম (লিটু) বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীন প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বহিরাগত লোকজন নিয়ে আবারও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টি ও সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীনের ওপর হামলা করে। এসময় অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার পর উক্ত শিক্ষকের নিরাপত্তাজনিত কারণে ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক পশ্চিম মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার ডেপুটেশন আদেশ দেওয়া হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, জাতির কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের ওপর এমন হামলা ও হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠানো সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে পূর্বের কর্মস্থল ৬৩ নং বেনাদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনর্বহালেরও দাবি জানানো হয়।