নুরুজ্জামান সাউদ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় অবস্থিত তেল ডিপো কেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোদনাইল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেহেদী এন্টারপ্রাইজ, শাহারা ট্রেডিং ও আলিফ ট্রেডার্সসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মিনিপাম্প বা ফুয়েল পয়েন্টগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের ফলে ওই পয়েন্টগুলো বর্তমানে বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকশ যানবাহন জ্বালানি সংকটে স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা গেছে, তাদের অধীনে থাকা বিপুল সংখ্যক ট্যাংক লরি এবং পণ্যবাহী গাড়ির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তারা নিজস্ব টার্মিনাল বা মিনিপাম্প ব্যবহার করে আসছিলেন। দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ রোধ এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানে এই পয়েন্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন শত শত গাড়িকে সাধারণ ফিলিং স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, মেহেদী এন্টারপ্রাইজ, শাহারা ট্রেডিং এবং আলিফ ট্রেডার্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অসংখ্য গাড়ি প্রতিদিন রাস্তায় চলাচল করে। এখন এসব গাড়িকে যদি সাধারণ পাম্পে দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়, তবে ডিপো থেকে তেল লোড করার নির্দিষ্ট শিডিউল রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে সারা দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের জট এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ক্ষেপণ তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে নিজস্ব পরিবহন বহরের জন্য তেল মজুদের এই বিশেষ সুবিধাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেবল ব্যবসায়ী নয়, বরং চালক ও হেলপাররাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সামগ্রিক জ্বালানি খাতের ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে গোদনাইল পদ্মা ডিপো এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আশা করছে, প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়মমাফিকভাবে এসব নিজস্ব মিনিপাম্পগুলো পুনরায় চালু করার দ্রুত অনুমতি দেবে, যাতে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, “আমাদের গাড়িগুলো ২৪ ঘণ্টা সেবায় নিয়োজিত থাকে। সাধারণ পাম্পে শত শত গাড়ির সিরিয়াল ঠেলে তেল নিতে গেলে পণ্য পরিবহনের চেইন ভেঙে পড়বে। এতে কেবল ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং বাজারে জ্বালানি সরবরাহের গতিও ধীর হয়ে যাবে।”