খোরশেদ আলম:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন সুত্রাপুর কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন নন্দী ও আরিফ নামের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতাপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে তারা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিজেদের কাছে রেখে দেন। পরে এসব নথি ফেরত দেওয়া বা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
সূত্র মতে, অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। কেউ সেই টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ এনে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সুত্রাপুর ভ্যাট বিভাগের আওতায় প্রায় এক থেকে দুই লাখের বেশি ব্যবসায়ী রয়েছেন, যাদের অনেকেই নিয়মিত ভ্যাট প্রদানের সক্ষমতা রাখেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অনেক ব্যবসায়ী নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভ্যাট সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে গেলেই অযথা ফাইল আটকে রাখা, নতুন নতুন কাগজপত্র চাওয়া কিংবা মামলার ভয় দেখানো হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।”
তারা আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাট কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বা অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধভাবে বিষয়গুলো ম্যানেজ করার পথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে করে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সুত্রাপুর ভ্যাট বিভাগে চলমান অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের আশা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং ভ্যাট বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।