সাগর চৌধুরী ভোলা:
সরেজমিন চিত্র ও জনরোষঃ সরেজমিনে আনন্দবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেকু (ভেকু) দিয়ে বড় আকারে ফসলি জমি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিগুলো প্রান্তিক কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস। জনবসতি সংলগ্ন এলাকায় এভাবে অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও মাটি কাটার ফলে ভবিষ্যতে নদী ভাঙনে এলাকাটি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক আনন্দবাজারটি এই খনন স্থলের অতি নিকটে অবস্থিত, যা থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব পায়। বাজার ও জনবসতি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কঃ এদিকে, এই কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্যান্য ঠিকাদাররা। ঠিকাদার সেলিম খান অভিযোগ করেন— একাধিক মামলার আসামি ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও মামুন চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত প্রচলিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে একতরফা ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে এই কাজ বণ্টন করেছেন। অন্যান্য ঠিকাদারদের সঙ্গে কোনো উন্মুক্ত আলোচনা না করেই মামুনের প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈদ্যেরবাজার—বারদী নৌপথের মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার দিয়ে উত্তোলিত মাটি ও বালু নিচু জমি ভরাটের জন্য বিক্রয় করার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, জনস্বার্থ ও ঐতিহাসিক বাজারের গুরুত্ব বিবেচনা না করে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবিঃ অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘মামুন গং’-এর পক্ষে শাহজালাল দাবি করেন, “যে জমিটি কাটা হচ্ছে সেটি কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন বা কৃষিজমি নয়। এটি মূলত একটি বেসরকারি কোম্পানির জায়গা। দীর্ঘদিন খালি থাকায় স্থানীয়রা সেখানে চাষাবাদ করছিলেন। এখন কোম্পানির প্রয়োজনে নদী থেকে বালু তুলে রাখার জন্য এটি ‘ডাম্পিং পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেজন্যই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবিঃ স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও আনন্দবাজারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই খনন প্রক্রিয়া পুনরায় বিবেচনা করা হোক। তারা এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ এবং একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যোগ্য ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।