মোঃ সোহেল:
চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড়ে “অক্সিজেন এক্সপ্রেস” নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বাসটি অক্সিজেন মোড় হয়ে মালিক সমিতির কাউন্টারের সামনে এসে থামে। এ সময় চালকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজেকে ড্রাইভার নয়, বরং কন্টাক্টার বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে—শত শত যাত্রী ও পথচারীর ভিড়ের মধ্যে একজন কন্টাক্টার কীভাবে বাস চালিয়ে আনলেন? দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নিতো—এমন প্রশ্ন তুলতেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি গাড়ির স্টার্টিং থেকে নেমে এসে প্রতিবেদকের ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে মালিক সমিতির কাউন্টারে দায়িত্বরত লাইনম্যান মোহাম্মদ সেলিমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। বাসটির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মালিক দেশে থাকেন না এবং ইনচার্জ হিসেবে “বড় দিঘীর পাড়ের এক ভদ্রলোকের” কথা উল্লেখ করেন, তবে তার কোনো যোগাযোগ নম্বর দিতে পারেননি।
এছাড়াও দেখা যায়, নির্ধারিত পার্কিং নিয়ম না মেনে সেখানে দুইটির পরিবর্তে তিন থেকে চারটি বাস রাখা হচ্ছে, ফলে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
সাধারণ পথচারীদের মতামত:
স্থানীয় পথচারী মো. রাসেল বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। এখানে বাসগুলো যেভাবে দাঁড় করানো হয়, তাতে হেঁটে চলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তার ওপর যদি অদক্ষ কেউ গাড়ি চালায়, তাহলে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।”
আরেক পথচারী রাশেদা বেগম বলেন, “আমরা ছোট বাচ্চা নিয়ে চলাফেরা করি। হঠাৎ যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন দায় কে নেবে? এসব দেখার কি কেউ নেই?”
একজন রিকশাচালক আবদুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লাইনম্যানরা নিজেরাই নিয়ম মানে না। বেশি গাড়ি ঢুকিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখে। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকি, আয়-রোজগার কমে যায়।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দায়িত্বে থাকা লাইনম্যানের মন্তব্য—“নিউজ করে কোনো লাভ হবে না, আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলি”—যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।