আইভীকে শ্যােন এরেস্টের আবেদনের কঠোর সমালোচনায় সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ডেভিড বার্গম্যান

ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী

ছয় মাস ধরে কারাবন্দি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ৫টি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পর নতুন করে কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান। বুধবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে, যতদিন সম্ভব তাকে কারাগারে বন্দি রাখাই এর আসল উদ্দেশ্য। যখনই তিনি কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেন, তখন নতুন সাজানো মামলা দায়ের করা হচ্ছে তাকে কারাগারে রাখার জন্য।

“জাতীয় নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ ঠেকাতেই যে এটি করা হচ্ছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” রোববার দুপুরে হাই কোর্টের বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। এদিনই নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মডেল থানায় করা দুটি মামলা এবং সোমবার ফতুল্লা থানায় করা আরও দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। সেসব আবেদনের শুনানির জন্য ১৩ নভেম্বর দিন রেখেছে আদালত। বার্গম্যান লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক যে, হাই কোর্ট আইভী রহমানকে পাঁচ মামলায় জামিন দেওয়ার পরদিনই পুলিশ আরও কিছু মামলায় নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে। অথচ প্রাথমিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ কর্তৃপক্ষ হাজির করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “এটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার নির্লজ্জ অপব্যবহার। ঊর্ধ্বতন কোনো সরকারি কর্মকর্তা, কিংবা পুলিশ বা বিচার বিভাগের কোনো উচ্চপদস্থ সদস্য এর নিন্দা করার বা এটি বন্ধ করার সাহস করেননি, এটা লজ্জার।” কিছু শর্ত পূরণ না হলে বা প্রমাণ দেখাতে না পারলে জুলাই আন্দোলনে হত্যার মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার রাখা ‘উচিত নয়’ মন্তব্য করে বার্গম্যান বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি সেসব প্রমাণ দেখাতে না পারে, তবে বর্তমানে এসব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সবাইকে অন্তত তাৎক্ষণিকভাবে জামিন দেওয়া উচিত।

শর্ত হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণ করতে ফটোগ্রাফ, ভিডিও বা মোবাইল জিও-লোকেশন তথ্য; হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে এমন অডিও বা ডিজিটাল প্রমাণ; অথবা কমান্ড চেইনের অংশ ছিলেন, আদেশ দেওয়ায় বা নেওয়ায় যুক্ত ছিলেন–এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকার কথা বলেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *