স্টাফ রিপোর্টার:
মাত্র কয়দিন আগে যাত্রাবাড়ী থানায় যোগদান করা নতুন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাজু একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। জানা গেছে, বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি সোমনাথ দে (পিতা: হরিপদ দেব), মোড়লগঞ্জ বাগেরহাটকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলা নং ১০১ গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দায়ের করা হয়। এই মামলায় আওলাদ হোসেন, পিতা মনির হোসেন বাদী ছিলেন। মামলায় আরও নাম রয়েছে ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচিত হাসিনা ওবায়দুল কাদেরসহ একাধিক ব্যক্তির। সোমনাথ দে ছিলেন সেই মামলার ১৩৮ নাম্বার আসামি।
এই মামলা থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আসামি সোমনাথ দে কে সোমনাথ দে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয় যাত্রাবাড়ি থানা ওসি তদন্তকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি এই থানায় নতুন এসেছি তাই এ বিষয় কিছু জানি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমনাথ দে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও চালাক। তিনি নিয়মিত দেখা করতেন ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে এবং তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের সঙ্গে। এছাড়াও তিনি মোড়লগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সোমনাথ দেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যতদিন থাকুক না কেন, এমন ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া আইন ও ন্যায়বিচারের চরম অবহেলা। আমরা আশা করেছিলাম নতুন ওসি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত তদন্ত করবেন। কিন্তু প্রথম থেকেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের বিশ্বাসকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাজু মাত্র কয়দিন আগে যোগদান করেছেন। তারপরও তিনি ইতিমধ্যেই একটি সংবেদনশীল ও বিতর্কিত মামলার এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যা থানা ও এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেও সংগঠিত হতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা নিজের দোসরদের সঙ্গে মিলে নির্বাচনী প্রভাব ও ক্ষমতা বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই ধরনের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া তাদের স্বার্থে সুবিধাজনক হতে পারে।”
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি করছেন, প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা জানান, “কোনোভাবেই ক্ষমতাশালী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আইনের আওতা থেকে আলাদা করা যাবে না। আমরা চাই আইনের চোখে সমান বিচার হোক।”
অন্যদিকে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত ওসি হাফিজ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। নতুন ওসি রাজু ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও মোড়লগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ এই ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করছেন।