স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে যোগাযোগ ও বৈঠক হয়েছে। গত বছরের মে মাসে লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি এবং রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়। ওই বৈঠকেই আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বৈঠক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে অবস্থানের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে দেশে ফেরেন তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দুই এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এই সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ও ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
এদিকে বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে কি না বা আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে কি না—সেদিকে নজর রাখছে দেশবাসী।