আটপাড়ায় সমিতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠানঃ

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলাধীন খারাপদুপ গ্রামে একটি সমিতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুরো গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে খারাপদুপ গ্রামের একটি সমিতির ভাগের টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ওইদিন একই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ রাব্বি মিয়া ও মোঃ রানা মিয়া সমিতির সভাপতি মোঃ আরিফ মিয়ার কাছ থেকে তাদের অংশের টাকা নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও কিল-ঘুষিতে রূপ নেয়।

এরই জের ধরে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, বুধবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে নারীসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আহতদের চিকিৎসা প্রদান করেন। এদের মধ্যে মোঃ আব্দুর রব মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে তিনি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—
মোঃ আব্দুর রব মিয়া, মোঃ সাইদুল, মোঃ নজরুল ইসলাম, আব্দুল হাফেজ, নুর মোহাম্মদ, কাউসার, কাশেম, আলমগীর, মমিন, মোঃ গোলাপ মিয়া, মোঃ বাবুল মিয়া, বজলু মিয়া, আনু মিয়া, মোঃ রানা মিয়া, ফারুক মিয়াসহ আরও অনেকে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিশেষ করে মসজিদের ইমাম নিয়োগ ও আরও কয়েকটি সামাজিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে দুই দফা গ্রাম্য সালিশ বৈঠক বসলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের মতো সহিংস ঘটনায় রূপ নেয় পরিস্থিতি।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন পুরো গ্রামজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তারা ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাড়িতে থাকা নারীরা বাধা দিলে তাদের ওপর নির্যাতন ও মারধর করা হয়। এমনকি কয়েকজন নারীর পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় আহত ও লাঞ্ছিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন—
মোছাঃ মালা আক্তার, রহিমা খাতুন, হোসনা আক্তার, মোছাঃ শিল্পা আক্তার, মোছাঃ ইয়াসমিন আক্তার, মোছাঃ পাপিয়া আক্তারসহ আরও অনেক নারী।

ঘটনার পর পুরো খারাপদুপ গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *